Thursday, 4 September 2014

নেক্সাস ফিজিওথেরাপি সেন্টার

বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ৮০% মানুষই  জীবনের কোন না-কোন সময়ে  ব্যাক পেইন বা কোমর ব্যথায় ভুগেন। সঠিক সময়ে এই কোমর ব্যথার নির্দিষ্ট কারন বের করে এবং দ্রুত চিকিৎসা করালে বার বার কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হতে হবে না।

কোমর ব্যথার কারণ :  কোমর ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বেশীর ভাগ হচ্ছে ‘মেকানিক্যাল সমস্যা’। মেকানিক্যাল সমস্য বলতে মেরুদন্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদন্ডের নির্দিষ্ট বক্রতার পরিবর্তনকে বোঝায়। চলাফেরা, জীবিকার ধরন, খুব বেশী ভার বা ওজন বহন, মেরুদন্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোনো কাজ করা, মেরুদন্ডে আঘাত পাওয়া সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদন্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্রাইটিস বা গেঁটে বাত, অস্টিওপোরোসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিস, মেরুদন্ডের স্নায়বিক সমস্যা, টিউমার ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসপেশির সমস্যা, পেটের বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদন্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুঁড়ি অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

উপসর্গঃ শুরুতে ব্যথা অল্প হলেও পরে তা বাড়তে থাকে বা হঠাৎ প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে এবং ব্যথা পায়ের দিকে নেমে মারাত্নক সমস্যা সৃষ্টি করে।এমন কি স্বাভাবিক চলাফেরা, নড়াচড়াও কঠিন হয়ে পড়ে। সমস্যার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে যেমন -কোমরে ব্যথা, পায়ে ব্যথা,ব্যথা পায়ের আঙ্গুলের দিকে নেমে আসা, পায়ে অবশ ভাব,পায়ে শিন শিন করা,পায়ে দুর্বলতা ইত্যাদি।ব্যথা দুই পায়ে বা যেকোনো এক পায়ে নামতে পারে।অনেকক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। অনেক সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে ব্যাথা কিছুটা কমে আসে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রোগীর কোমর ও পায়ের মাংসপেশির ক্ষমতা কমে আসে এবং শুকিয়ে যেতে পারে, সর্বোপরি রোগী চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।তাই প্রথম অবস্থায় একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাঃকোমরের সমস্যার উপর নির্ভর করে ফিজিওথেরাপিস্ট Exercise ও অন্যান্য ফিজিওথেরাপি নির্ধারণ করে। সকল সমস্যার জন্য একই Exercise প্রযোজ্য নয়। Back strengthening exercise এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী Traction, UST, SWD, TENS, MANIPULATION , MOBILISATION চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

আপনি নিজে কি করতে পারেন:ফিজিওথেরাপিস্টের দেওয়া পরামর্শ মেনে চলুন। শেখানো ব্যায়াম গুলো নিয়মিত করুন। দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকবেন না।হাঁটু না-ভেঙে সামনের দিকে ঝুঁকবেন না।  সঠিক পদ্ধতিতে ভারী জিনিস বহন করলে বারবার কোমর ব্যথা ফিরে আসবে না। শুধুমাত্র এক্সারসাইজ এবং অন্যান্য উপদেশ মেনে চললে কোমর ব্যথা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া যায়।

হাঁটুর ব্যথায় চলাফেরা,সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করতে অসুবিধা হচ্ছে? ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটুর এক্সারসাইজ করলে শুধুমাত্র ব্যথা-ই কমবে না পরবর্তী তে ব্যথা হবার সম্ভাবনা ও অনেক কমে যাবে।
এক্সারসাইজ হাঁটুর মাসল/ মাংসপেশী গুলোকে শক্তিশালী করে ও হাঁটুর ব্যথা কমায়।পায়ের মাসল যদি দুর্বল হয় তাহলে হাঁটুর জয়েণ্টগূলো-কে ঠিক মতো সাপোর্ট দিতে পারে না।ফলে হাঁটুর উপর পুরো শরীরের অতিরিক্ত চাপ পরে যায়। তখন অল্প আঘাত লাগলেও তা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।তবে শুধুমাত্র মাসল টাইট করলে-ই চলবে না তার সাথে বাড়াতে হবে হাঁটুর ফ্লেক্সিবেলিটি।
কি কি কারণে হাঁটুর ব্যথা হয়?
অস্টিও-আরথ্রাইটিস,লিগামেন্ট ইনজুরি, টেন্ডন ইনজুরি, রিউমাটয়েড-আরথ্রাইটিস, গাউট, অষ্টিও-পরসিস,সেপটিক-আরথ্রাইটিস,স্পোর্টস ইনজুরি,আঘাত জনিত ব্যথা,গ্রোথ পেইন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উপসর্গসমূহঃ
•    হাঁটু-তে ব্যথা অনুভূত হয়
•    ফুলে যায়
•    লাল হয়ে যেতে পারে
•    হাঁটাচলা/সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে অসুবিধা হয়
•    হাঁটু ভাঁজ /সোজা করতে অসুবিধা হয়





কাঁধে ব্যথা বা ফ্রজেন সোলডার

কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া, কাঁধে তীব্র ব্যথা এবং ধীরে ধীরে কাঁধের ও হাতের নাড়ানো-র ক্ষমতা কমে যাওয়া হল ফ্রজেন  সোলডার-এর  প্রধান লক্ষণ। সাধারণত উপসর্গগুলো ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং সময়-এর সাথে তা খারাপ হতে থাকে। তবে ৯ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে ফ্রজেন সোলডার সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে যায়।
ফ্রজেন সোলডার-এর কারণঃ সাধারণত ডায়াবেটিস রোগী, সোলডার ইঞ্জুরি, সোলডার সার্জারি, সারভাইকেল স্পন্ডোলায়সিস, হার্ট সার্জারি, মহিলাদের মাসিক বন্ধ হবার পর এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

উপসর্গঃ ব্যথা, কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া, জয়েন্ট নড়াচড়া-তে অসুবিধা, হাত ঝিন ঝিন করা, হাতে ভারী ভাব – প্রধান লক্ষণ। সাধারণত এই রোগের ক্ষেত্রে x-ray তে কোন কিছু পাওয়া যায় না। ফ্রজেন সোলডার-এর  কারনে চুল আঁচড়াতে , শার্ট পরতে, পিছনের পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করতে, ভারি জিনিস উঠাতে অসুবিধা হয়।

চিকিৎসাঃ ব্যথা নিরাময় ওষুধের মাধ্যমে ব্যথা কিছুটা কম হলেও তা ক্ষণস্থায়ী। তবে এসব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি খুব-ই কার্যকর। অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা  মাসল ব্যালেন্স থেরাপি এবং শেখানো ব্যায়াম-এর মাধ্যমে কাঁধের ব্যথা নিরাময় হয় এবং রোগী হাত উপরে উঠাতে পারে। ১৫-২১ দিন ফিজিওথেরাপির পর প্রতিদিন বাসায় শেখানো ব্যায়ামগুলো করতে হবে।এতে দ্রুত ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।



সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর গোড়ালি ব্যথার জন্য পায়ে ভর দেওয়া যায় না?বেশিক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়ানো যায় না..? হাঁটাচলা বা দৌড়ানোর সময় গোড়ালি শরীরের সম্পূর্ণ ওজন বহন করে।হিল পেইন বা গোড়ালি ব্যথা পায়ের ব্যথাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বিভিন্ন কারনে গোরালির  ব্যথা হয়ে থাকে যেমন-প্লেন্টার ফেসাইটিস, কেলকেনিয়ান স্পার,রেট্রকাল-কেনিয়ালবারসাইটিস,একিলিসটেন্ডিনাইটিস, আরথ্রাইটিস ,আঘাত/ইঞ্জুরি,ওস্টিওমাইলাইটিস ,অর্থোপ্যাথি, রিউমাটোএড আরথ্রাইটিস।

 উপসর্গঃ
- পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা। হাঁটলে ব্যথা  বেড়ে যায়।
- গোড়ালি কখনো কখনো ফুলে যেতে পারে।
- খালি পায়ে শক্ত জায়গায় হাঁটলে ব্যথা বেশি বাড়ে।
- প্লাস্টার ফাসাইটিস হলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা সকালে বেশি থাকে এবং তা বেলা বাড়ার সাথে কমে।
- কখনো কখনো গোড়ালি শক্ত শক্ত মনে হয়।
- শক্ত জুতা ব্যবহার করলেও ব্যথা বেড়ে যায়।

চিকিৎসা
সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধ যেমন¬প্যারাসিটামল, ইন্ডোমেথাসিন, নেপ্রক্সিন ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে। তবে  এইক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি বিশেষ করে করে।ওয়াক্স থেরাপি, হাইড্রোথেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, এক্সারসাইস  ভালো কাজ। নীচের পরামর্শ মেনে চললে একজন সুস্থ  মানুষও এ রোগ থেকে দূরে থাকতে পারে।

- আর্চ সাপোর্ট দেয়া, গোড়ালির কাছে ছিদ্র করে নেয়া।
- সবসময়  নরম জুতা বা সোল ব্যবহার করবেন।
- একটানা বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না বা হাঁটবেন না।
- ব্যথা বেশি থাকা অবস্থায় কোনো প্রকার ব্যায়াম নিষেধ।
- হাই হিল জুতা ব্যবহার করা নিষেধ।

NEXUS PHYSIOTHERAPY CENTRE
364/7 South Monipur,Dhaka., 1216 Mirpur, Dhaka, Bangladesh.Mobile-01795-405475



আজ কাল আমাদের দেশে কোমর ও ঘাড়ে ব্যথার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এই ঘাড়ে ও কোমর ব্যথার অন্যতম কারন হলো অসচেতনতা। একটু সচেতন হলেই এই ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। কোমর ও ঘাড়ে ব্যথার বড় অংশ হল যারা বসে বসে কাজ করেন। যেমন অফিস এক্সিকিউটিভ, দোকানদার, কম্পিউটার অপারেটর।
যারা অফিস এক্সিকিউটিভ তাঁরা সারাদিন অফিসে বসে অনেক লেখালেখি করেন ও ল্যাপটপে কাজ করেন সামনের দিকে ঝুঁকে। ফলে কোমর ও ঘাড়ের মাংস পেশিতে স্ট্রেস থাকে দীর্ঘক্ষণ। এই স্ট্রেস থাকার কারনে মাংস পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যায়। এর কারনে বিভিন্ন রকমের উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন কোমরে লার্ডোটিক কার্ভ কমে যায়। আবার দুর্বল স্টাকচারের কারনে অনেক সময় লাম্বার স্পাইনের ভিতরের ডিস্ক পিছনের দিকে বেড় হয়ে নার্ভ রুটএ চাপ দেয় যার ফলে পায়ের নিচের দিকে মাংস পেশিতে ব্যথা হয়।
এছাড়া ঘাড়েও একই রকম ব্যথা হয়। এর মধ্যে সবচাইতে বেশি দেখা যায় (ফরওয়ার্ড হেড পোশ্চার) মাথা একটু বেশী সামনের দিকে আসে। একটু সচেতন হলেই এ ধরনের জটিল সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। যেমন দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় বসে কাজ না করা, কাজের ফাঁকে ফাঁকে উঠে দাঁড়িয়ে অবস্থান পরিবর্তন করা।বসার সময় কোমর সুরক্ষিত থাকে, এমনভাবে বসতে হবে।
চেয়ারে Lumbar Roll ব্যাবহার করে মেরুদণ্ড কে সোজা রেখে কোমর ব্যথা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।শক্ত সমান বিছানায় এক বালিশে চিত হয়ে ঘুমাবেন।ঘাড় যাতে বালিশ(Cervical Pillow) দিয়ে সাপোর্ট দেয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন।

কোমর ব্যথা এড়াতে – Medicare Lumbar Roll

ঘাড়ে ব্যথা এড়াতে – Medicare Cervical Pillow

No comments:

Post a Comment