Thursday, 24 July 2014

কিডনীতে ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাব….



কিডনীতে ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাব….


download
কিডনীতে ফরমালিন সহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব নিয়ে আমার হেলথ ডট কমের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রফিকুল আলমের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়-
আমার হেলথ: ফরমালিন সহ যে অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যাদি যে পরিমান খাদ্যতে মিশানো হচ্ছে তা খেলে মানুষের কিডনীতে কী পরিমান ক্ষতি হতে পারে?
অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল আলম: ফরমালিন বা কার্বাইড এছাড়া আরও অনেকগুলো যেগুলোকে আমরা প্রিজারবেটিভ বলে থাকি এই রাসায়নিক যৌগ-গুলো আমাদের মাছ মাংস, খাদ্য দ্রব্য পচন রোধ থেকে সাহায্য করে এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে এগুলো যদি অত্যাধিক মাত্রায় ব্যবহার করা হয় এবং দীর্ঘ সময় খাওয়ানো হয় তাহলে শরীরের উপর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়। বিশেষ করে আমাদের লিভার, কিডনি, অনেক সময় চর্ম, ফুসফুস, অনেক সময় গলনালী উপর?। কিডনীতে যেটা হচ্ছে সেটাকে আমরা সাধারন (মাইক্রোসিস) বলে থাকি। আবার কিডনী ফুলে যায় কিডনীর টিউবওয়েল গুলো ফুলে যায় ( আবার একিউব, টিউবওয়েনাল মাইক্রোসিস এছাড়া একিউব কিডনী ফলী হতে পারে অথবা কিডনী ডিজসি হতে পারে। কিডনীতে ফরমালিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বেশি মাত্রায় থাকে।
যেটা পানিতে দ্রবনীয়, বিশেষ করে ফরমালিন পানিতে দ্রবনীয় জিনিসগুলো শরীরের নিষ্কাশনের একটা বড় পথ হচ্ছে কিডনী। যার ফলে এটা যখন কিডনীর মাধ্যমে পাস হয়ে রক্তে লোহিত কনিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয় তখন সেটা কিডনীর উপর প্রতিক্রিয়া করে এবং কিডনীর সেলগুলোকে ড্যামেজ করে। ফরমালিন যদি অতিরিক্ত হয় তাহলে স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী ভাবে আমাদের কিডনী বিকল করতে পারে।এছাড়া একিউবওয়েনাল মাইক্রোসিস অফ টক্সিস মাইক্রোসিস হয়।আর দীর্ঘ মেয়াদীর ফলে কিডনী বিকল হতে পারে।
আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ যখন কোনো জিনিস কিনে তখন সেটার উৎস জেনে কিনেন না, এগুলোতে কী মিশানো হচ্ছে তাও আমরা জানি না। আমরা না জেনে বছরের পর বছর এসব ফরমালিনযুক্ত খাবার খেয়ে যাচ্ছি।
আমার হেলথ: ফরমালিনযুক্ত খাবার থেকে বাঁচার উপায় কী?
অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল আলম: এর থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে, রাসায়নিক দ্রব্যগুলো খাদ্যে কি পরিমাণে মিশানো হচ্ছে তা নির্ণয় করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ এছাড়াও জনগনকেও সচেতন হতে হবে। আর আমাদের রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো খাবার বর্জন করতে হবে।
সাধারণ ভাবে ফরমালিন মুক্ত করার আমার উপদেশ হচ্ছে আপনি যখন কোনো খাদ্য সামগ্রী বাজার থেকে কিনবেন বিশেষ করে ফলমূল কোন জায়গা থেকে কিনলে, আর তাতে ফরমালিন আছে এরকম সন্দেহ থাকলে, সেগুলোকে পানি অথবা ভিনেগার মিশ্রিত (১০%-৯০% অনুপাতে)পানিতে অত্যন্ত ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন এতে ফরমালিনের বিষক্রিয়া অনেক খানি কমে যাবে। সেক্ষেত্রে আমাদের শরীরের ক্ষতি অনেকখানি কম হবে।
আমার হেলথ: আমাদের শরীরের জন্য ফরমালিনে সহনীয় কোন মাত্রা আছে কি?
অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল আলম: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা যেমন এফ. ডি. এ. তারা ফুড ফিজারবেটিভ অফ বিজনেস এর ক্ষেত্রে শুধু ফরমালিন নয় অন্যান্য ফিজারবেটিভ খাদ্য দ্রব্যে মিশালে সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটা খাদ্য দ্রব্যের জন্য আলাদা আলাদা পরিমান দেওয়া আছে।
তাই আমাদের উচিৎ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে কোন খাবারে কতটুকু এবং আমাদের দেশের খাবারের মাত্রা কেমন সেটা জেনে খাদ্য দ্রব্যে ফিজারবেটিভ মিশানো উচিৎ। এবং তা যেন আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা হয়।
আমার হেলথ: ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে আমাদের গর্ভবতী মায়েদের এবং গর্ভস্থ সন্তানের উপর কোনো প্রভাব আছে কি?
অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল আলম: বিষাক্ত ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাবটা সুদূর প্রসারী। এটা আমাদের অস্থিমজ্জ , লান্সের ক্ষতি করে, লিভার, কিডনী,এবং আমাদের স্কিনের ক্ষতি করে। ফরমালিন গর্ভবতী মায়েদের উপর এবং সাথে সাথে তার গর্ভস্থ সন্তানের উপর বিরুপ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। গর্ভস্থ একটি শিশু তার তার মায়ের সাথে যুক্ত থাকে সেক্ষেত্রে তার সকল পুষ্টি এবং অন্যান্য কার্যকলাপ মায়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সুতরাং সেই গর্ভবতী মা যখন ফরমালিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করবে তখন ফরমালিনের বিষক্রিয়া তার উপর তো পড়বেই সাথে সন্তানের উপরও পড়বে।
আমার হেলথ: আপনি কী এমন কোন রোগি পেয়েছেন যারা ফরমালিন দ্বারা আক্রান্ত হয়ে আপনার এখানে ভর্তি হয়েছে?
অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল আলম: এটা একটা ভালো প্রশ্ন করেছেন, আমি এখানে অনেক দিন ধরে কাজ করছি এখানে অনেক কিডনী ফেইলুর রোগি আসে যাদের কিডনীতে সমস্যা,আমাদের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা তার কারণ নির্ণয় করতে পারি না।
বাংলাদেশের বংশভূত এক গবেষক আমার নামটা এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না তিনি একটি গবেষনা চালিয়ে দেখেছেন যে কৃষিজাত দ্রব্যের বিশেষ করে ভেজিটেবলস-এ অতি উচ্চ মাত্রায় একটি রাসায়নিক পদার্থ ক্যাডমিয়াম পাওয়া যায়। তিনি আরও দেখেছেন যে কৃষিজাত দ্রব্যের যেগুলোর আবরণ বা খোসা মোটা তাদের ক্ষেত্রে কম এবং যেগুলোর খোসা পাতলা তাদের ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিকর।
উনার বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশে যেসব অজ্ঞাত কিডনী রোগ হচ্ছে তার মধ্যে এই ক্যাডমিয়াম, ফরমালিন, এবং কার্বাইড এগুলোর কারণে হওয়া অতি উজ্জল। সত্যিকার অর্থে আমাদের এগুলো নির্নয় করার জন্য সেরকম কোনো ব্যবস্থা নেই।

No comments:

Post a Comment