Wednesday, 23 July 2014

এই সময়ে স্বাস্থ্য পরিচর্যা


এই সময়ে স্বাস্থ্য পরিচর্যা





Lifestyle

গরমে ডায়েট

গরমের এই দিনগুলোতে খাওয়াদাওয়া নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। খেতে যেমন অরুচি হয় তেমনি খাবার হজমেও সমস্যা দেখা দেয়।
নাশতা
এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ নাশতার পরই মানুষ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে। এ জন্য নাশতা ভারী ও পছন্দসই হওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাশতায় প্রোটিন ও খনিজ পদার্থ থাকা প্রয়োজন। আবার সকালের দিকে দেহের রক্তে শর্করা কমে যায়। এই শর্করার মাত্রা বাড়াতে না পারলে শরীর অবসন্ন বোধ হবে। কাজে উৎসাহ আসবে না।
কয়েক ধরনের নাশতা
আটার রুটি, নিরামিষ ও ডিম বা গোশত/ পাউরুটি-মাখন, জেলি ও ডিম/চিঁড়া-কলা-দই ও ডিম/ভাত-দই-ডিম/পাউরুটি-নিরামিষ-ডিম এর থেকে যেকোনো একটা বেছে নিতে পারেন। প্রাতঃরাশ এমন হওয়া উচিত যাতে পেট ভরে ও পুষ্টির মানও বজায় থাকে।
দুপুরের খাবার
এ সময়ের খাবার হবে ভাত। সুসিদ্ধ ডাল, সবজি, গোশত বা মাছের ঝোল। টক, যেকোনো তেতো খাবার ও শাক ইত্যাদি। গুরুপাক খাবার এ সময় না খাওয়াই ভালো। খাওয়া যেতে পার আলুভর্তা, বেগুনভর্তা ইত্যাদি।

রাতের খাবার
রাতের খাবার কিছুটা হালকা হওয়া উচিত। কারণ এরপরই মানুষ ঘুমাতে যায়। মাছ-গোশত কম মসলা দিয়ে রান্না হওয়া প্রয়োজন। রাতে যাদের রুটি খাওয়ার অভ্যাস তারা মাছ-গোশতের বদলে নিরামিষ ও ঘন ডাল খেতে পারেন। স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো হবে।
বিকেলের নাশতা
মুড়ি, ছোলাসেদ্ধ, শসা/দই, চিঁড়া, কলা/আম বা কাঁঠাল ও মুড়ি/পায়েস ও মুড়ি/দুধ-সেমাই/মুড়ি/খই, আম, দুধ/খই, দুধ, কলা/পরিজ/কর্নফেক্স-কলা/ যেকোনো ফল একটি। মোট কথা গরমের খাবার হবে জলীয়। সহজপ্রাপ্য এবং হালকা মসলাযুক্ত। এ সময় যেকোনো শরবত। ফলের রস ও ডাবের পানি খেলে ভালো হয়। এতে দেহে পানির ঘাটতি রোধ করা যাবে এবং দেহ ও মন সতেজ থাকবে। ভাজা খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়া উচিত। গরমের মধ্যে কম লবণ খেয়ে পাতিলেবুর রস ও রসুন খাওয়া ভালো। বাজারের তৈরি খাবার বাদ দিয়ে যতটা সম্ভব বাড়ির তৈরি খাবার খাওয়া উচিত।

এই সময়ে ত্বকের যত্ন


গরমে ত্বকে ধুলোবালু ও ঘাম জমে। এই ঘাম ও ধুলা দীর্ঘস্থায়ী হলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। গরমে তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের প্রকোপও বেড়ে যায়। মুখমণ্ডলের তেলতেলে ভাব সারাক্ষণ অস্বস্তিতে রাখে। এ সময়ে রোদের তীব্রতা বেশি হওয়ায় ত্বক পুড়ে যাওয়া ছাড়াও চুল লালচে ও নির্জীব হয়ে পড়ে। ঘামে চুলের গোড়া ঘেমে গিয়ে অনেক সময় চুল পড়তে শুরু করে। অতিরিক্ত গরমে ত্বকে ঘামাচি ওঠে। এই গরমে ত্বকের সমস্যা সমাধানে কী করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন গৃহসুখনের কর্ণধার রূপ বিশেষজ্ঞ রিমা জুলফিকার। তিনি বলেন, গরমে ত্বককে সমস্যামুক্ত রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুব জরুরি।
গরমকালে তৈলাক্ত ত্বকে দিনে কয়েকবার কিনজিং করুন। মুখমণ্ডলে বারবার ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দেবেন। এ ছাড়া ব্রণ হয়ে গেলে নিমপাতা, কাঁচা হলুদ ও চন্দন বেটে পেস্ট করে ব্রণের ওপর লাগাবেন। লবঙ্গ ও চন্দন বেটে লাগালেও উপকার হয়।
গরমে অতিরিক্ত ঘামের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে দিনে দু’বার গোসল ছাড়াও সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরুন। ঘাম জমলে কাজের ফাঁকে ফাঁকে পরিষ্কার রুমাল ভিজিয়ে বা ভেজা টিস্যু দিয়ে ঘাম মুছে ফেলুন। হালকা মিষ্টি সুগন্ধযুক্ত বডি ¯েপ্র, পারফিউম ব্যবহার করুন। গোসলের সময় পানিতে লেবুর রস, কর্পূর ইত্যাদি মিশিয়ে নিতে পারেন।
বাইরে বেরোলে এখন রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় থাকে অনেকেই। রোদ থেকে নিজেকে বাঁচাতে প্রথম সুরক্ষা হলো ছাতার ব্যবহার। বাইরে বের হলে ১০-১৫ মিনিট আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন বা সানব্লক লোশন লাগাবেন। এ ছাড়াও প্রতিদিন বাইরে বেরোনোর আগে ভালো ভ্যানিশিং ক্রিম মেখে নেবেন। অলিভ অয়েল ও ভিনেগার মিশিয়ে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে নিলে রোদে পোড়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। আলুর রস ও শসার রস, পাকা টমেটোর রস রোদে পোড়া কালো দাগ তুলতে কার্যকরী। গরমে চুলের গোড়া ঘেমে গেলে তাড়াতাড়ি ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন। অনেকক্ষণ ধরে চুলের গোড়া ঘেমে থাকলে চুল পড়া শুরু হয়ে যেতে পারে। এ সময়ে সপ্তাহে দু-তিন বার চুল শ্যাম্পু করতে হবে। চুল পড়া শুরু হলে শুকনো আমলকী ভিজিয়ে বেটে এবং মেহেদি বাটা একসাথে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ঘণ্টা দুয়েক পর চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন চুলের গোড়ায় গরম তেল ম্যাসাজ করতে হবে। তারপর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় ৫ মিনিট পেঁচিয়ে রেখে পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
এ সময় যথাসম্ভব চুল বেঁধে বাইরে বের হোন। রোদ থেকে চুলকে রক্ষা করতে ছাতা ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে স্কার্ফ পরুন। কারণ হেলায়ফেলায় চুল একবার নষ্ট হয়ে গেলে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আপনাকে অনেক বেগ পেতে হতে পারে।
তাই এই গরমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ায় যথেষ্ট সচেতন থাকুন। বেশি করে ফলমূল, ঠাণ্ডা পানীয়, শরবত এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।

No comments:

Post a Comment